আমফানের পর পরিষেবা দিতে ব্যর্থ CESC ও কলকাতা পুরসভা, কারণ ভিন রাজ্যের কর্মীরা এখন বাড়িতে - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Saturday, May 23, 2020

আমফানের পর পরিষেবা দিতে ব্যর্থ CESC ও কলকাতা পুরসভা, কারণ ভিন রাজ্যের কর্মীরা এখন বাড়িতে

করোনা মহামারীর প্রকোপ রুখতে বাংলা সহ ভারতে লক ডাউন চলছে। বাংলায় কাজ করা ভিন রাজ্যের বহু চাকরিজীবী, শ্রমিক বাড়ি ফিরে গেছে। এর মাঝেই বাংলায় আছড়ে পড়ল ভয়ংকর সুপার সাইক্লোন আমফান। ১৭৩৭ সালের পর সবচেয়ে বড় ঝড়, ক্ষতি আয়লার থেকেও অনেক বেশি। ঝড়ে কলকাতা সহ পুরো দক্ষিণবঙ্গ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় এখনও গাছ পড়ে আছে, রাস্তায় বিদ্যুৎ এর তার কাটা, বিভিন্ন এলাকায় ৭০-৮০ ঘন্টা কোনো জল নেই। পুরসভা কাজ করছে পুরোদমে, কলকাতা ও শহরতলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক করতে কাজ করছে CESC ও। বিদ্যুৎমন্ত্রী, পুরমন্ত্রী, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপেও অনেক এলাকা এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। পুরসভার পক্ষ থেকে কর্মীর অভাবের কথা বলা বারবার বলা হচ্ছে।

কর্মীর অভাব কেন? কারণ পুরসভার কিছু কর্মী নানা জেলা থেকে আসে, অনেকে আবার অন্য রাজ্যের। ভিন রাজ্যের লোকেরা নিজের রাজ্যে ফিরে গেছে। তাই পুরসভার গাছ কাটার এবং ড্রেনেজ ঠিক করার লোক পাওয়া যাচ্ছে না৷ গত লোকসভা ভোটের আগে রাষ্ট্রীয় বিহারী সমাজের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, কলকাতা পুরসভার ৯০% কাজ বিহারীরা করে। এখন ফল ভুগছে বাংলা। বাংলার চাকরি, কাজ ভিনরাজ্যের লোকেদের দিলে এভাবেই সমস্যায় পড়তে হবে, মত বিশেষজ্ঞদের।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের খবর বেরিয়েছিল আনন্দবাজার পত্রিকায়৷
https://www.anandabazar.com/state/tmc-takes-over-a-union-of-rashtriya-bihari-samaj-1.860553

সিইএসসি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। গোয়েঙ্কার মালিকানাধীন CESC র ব্যর্থতায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ কলকাতা ও শহরতলীর মানুষ৷ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন প্রচুর মানুষ। বেসরকারি CESC এর বিদ্যুৎ এর বিল ভারতের অন্যান্য শহরের থেকে বেশি, কিন্তু বিপদে বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে এভাবে ব্যর্থ কেন? কর্মীর অভাবের কথা সামনে আসছে। সিইএসসির কত শতাংশ কর্মী বাঙালি? কত শতাংশ এই বাংলার? উঠছে প্রশ্ন। বহিরাগত কর্মীদের জন্যই এখন মহাবিপদে কলকাতা ও শহরতলীর মানুষ। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী সিইএসসির অফিসে গেছিলেন, কিন্তু গোয়েঙ্কারা আশার কথা শোনাতে পারছেন না।

রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘শহরে প্রচুর গাছ ভেঙে পড়েছে। তাই গাছ কাটার দলের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে পুরসভাকে।’’ এর জবাবে পুরসভার পার্ক ও উদ্যান দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে লোকবল বাড়ানোর ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। এই ধরনের কাজে অভিজ্ঞ লোকজন পাওয়া কঠিন। এঁদের বাইরে থেকে আনা হয়। এখন করোনার সময়ে কেউ আসছেন না।’’

WBSEDCL এর ক্ষেত্রেও কর্মীর অভাবের কথা সত্য। রাজ্য সরকারি কোম্পানী হলেও, এখানেও বড় অংশের কর্মী ভিন রাজ্যের৷ তাই আমফান মোকাবিলায় নাজেহাল রাজ্যের বিদ্যুৎ পর্ষদ।
-নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলার চোখ


No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad