ভূমিপুত্র সংরক্ষণের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিল বাংলা পক্ষ - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Saturday, May 16, 2020

ভূমিপুত্র সংরক্ষণের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিল বাংলা পক্ষ

লক ডাউনের সময় ঘর গোছাতে ব্যস্ত প্রতিটা রাজ্যই। প্রতিটা রাজ্যই সমস্ত চাকরি- ঠিকা কাজ - টেন্ডার সমস্ত কিছুতেই নিজের রাজ্যের নাগরিকদের অগ্রাধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার। এই সময় ভিন রাজ্যে আটকে থাকা বাংলার শ্রমিকরা সংকটে, গুজরাটে পুলিস বাংলার শ্রমিকদের মারধোর করছে, উত্তর প্রদেশে বাঙালি শ্রমিকরা পথ দুর্ঘটনার শিকার।

অন্যদিকে নিজেদের রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবহার হাল ধরতে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতল গুলো থেকে শয়ে শয়ে নার্স ইস্তফা দিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরে যাচ্ছে। বিপদে রাজ্যের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। অন্য সময় তারা এখানে আয় করল, এখন বিপদে ছেড়ে পালাচ্ছে। বাংলায় এখানকার বাঙালি নার্সরা চাকরি পেলে আজ এই পরিস্থিতি হতো না, মত বিশেষজ্ঞদের।

সব রাজ্যই যখন ঘর গোছাচ্ছে, বাংলারও এখন জিনিস করা উচিত। কয়েকদিন আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি বাংলার শ্রমিকদের বাংলাতেই কাজ দেবেন। কিন্তু কিভাবে? বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠন বাংলা পক্ষর দাবি, সব চাকরি- ঠিকা কাজ- টেন্ডার- লাইসেন্স - হকারি স্পটে কমপক্ষে ৯০% ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইন চালু করাই এখন একমাত্র পথ।

এটা বাংলা পক্ষর দীর্ঘ দিনের দাবিও। সংগঠনের মতে, লক ডাউন শেখাচ্ছে বাংলা পক্ষর দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত।
সংগঠনের ফেসবুক পেজ থেকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দেওয়া হয়েছে ভূমিপুত্র সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে। চিঠির বয়ান নীচে দেওয়া হল।

"**ভূমিপুত্র সংরক্ষণের দাবিতে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি**
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী,
লক ডাউন চলছে, নানা রাজ্যে আমাদের শ্রমিকরা আটকে আছে। আমাদের রাজ্যেও অন্য রাজ্যের শ্রমিকরা আটকে আছে। একমাত্র কেরালা বাংলার শ্রমিকদের জন্য সুবন্দোবস্ত করেছে, অন্যান্য কয়েকটা রাজ্য টুকটাক করেছে, আর বেশিরভাগ রাজ্যে বাঙালি অনাহারে ও কষ্টে থেকেছে, কেউ এগিয়ে আসেনি। কিন্তু আমাদের রাজ্যে সরকারি ক্যাম্পে বহাল তবিয়তে আছে কয়েক লাখ বহিরাগত শ্রমিক। এমনকি আমাদের সরকার সরকারি বাসে তাদের বাড়ি ছেড়ে আসছে। আবার বাড়ি ছাড়তে গিয়ে বাস উধাও করে দিয়েছিল, আক্রান্ত হয়েছে চালকরা৷ সে ঘটনার কথা সকলেই সংবাদমাধ্যমে দেখেছে।

অন্যদিকে গুজরাটে পুলিস বাঙালি শ্রমিক পেটাচ্ছে। উত্তর প্রদেশে কোনো সাহায্য পায়নি বাংলার শ্রমিকরা। পথ দুর্ঘটনায় অনেককে শেষ করে ফেলা হয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে সমস্যায় বাংলার শ্রমিকরা।

করোনা মহামারী আটকাতে সবথেকে সামনে থেকে লড়ছে নার্সরা। অন্য রাজ্যের অনেক নার্স বাংলার নানা বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করে। তাদের রাজ্যে এখন নার্স প্রয়োজন, সবাই গণ ইস্তফা দিয়ে নিজের রাজ্যে, নিজের সরকারের হয়ে কাজ করবে বলে ফেরত যাচ্ছে। পথে বসছে বাংলার বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। এই জায়গাগুলোয় বাংলার নার্সরা থাকলে আজ এই বিপদে এমন অনভিপ্রেত সংকটে পড়তে হতো না।

বাংলায় নানা জায়গায় চাকরি- কাজ আছে। সেগুলো বাঙালি শ্রমিকরা পায় না। বাঙালিকে চাকরিতে নেওয়া হয় না। বাঙালি নিজের রাজ্যেই বঞ্চিত। অথচ অন্যান্য সব রাজ্য নিজের মানুষের স্বার্থ প্রথম দেখে। বাংলায় চাকরি আছে, বাঙালির নেই। বাংলায় টাকা আছে, বাঙালির নেই। কিন্তু এই বাংলা বাঙালির মূল ঘাঁটি। এই বাংলা ভাষার ভিত্তিতে তৈরি রাজ্য, এ রাজ্যে ৮৬% মানুষ বাঙালি।

লক ডাউন নতুন করে শিক্ষা দিচ্ছে, রঙ চেনাচ্ছে। বিপদের সময়ের সঙ্গী চেনাচ্ছে। প্রতিটা রাজ্যই নিজের মানুষের জন্য ভূমিপুত্র সংরক্ষণ করছে। বেসরকারি চাকরি- ঠিকা কাজ - টেন্ডার- লাইসেন্স - হকারি স্পটে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ করছে, অনেক রাজ্যেই তা ইতিমধ্যেই আইনে পরিনত হয়েছে। বাংলাতেও কমপক্ষে ৯০% ভূমিপুত্র সংরক্ষণ সময়ের দাবি।

মহাশয়া, আপনি কদিন আগেই বলেছেন বাংলার শ্রমিকদের বাংলাতেই কাজ দেবেন। এই ঘোষণা কে কার্যকর করার মূল পথই হল ভূমিপুত্র সংরক্ষণ। বাঙালির জন্য এই বাংলা ছাড়া কোনো জায়গা নেই। তাই এই বাংলার মাটি সহ সব কিছুর প্রথম অধিকার বাঙালি সহ সকল ভূমি সন্তানের।

আপনার ঘোষণা কার্যকর করুন, আবেদন জানাই। সব স্কুলে বাংলা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা করেও কার্যকর না করার মতো অবস্থা এক্ষেত্রে হলে বাঙালির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

জয় বাংলার শুভেচ্ছা সহ,
বাংলা পক্ষ"
-নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলার চোখ

1 comment:

Post Bottom Ad