WBSEDCL এ চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ভাষার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবি - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Thursday, March 26, 2020

WBSEDCL এ চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ভাষার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবি


লেখক- সায়ন মিত্র
করোনা নিয়ে সারা রাষ্ট্রের মানুষের মনে আতঙ্ক গ্রাস করেছে, বাংলাও তার ব্যতিক্রম না। কিন্তু বাংলার বাঙালিদের আতঙ্কিত হওয়ার আরো কিছু কারণ আছে যা আমাদের দৈনন্দিন জীবন, পুঁজি এবং জীবনধারণের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এটা রাজনীতির সময় নয়, কিন্তু বাঙালি ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত ধ্বংস করা হচ্ছে।


       (লেখক- সায়ন মিত্র)
পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা বাংলার বেশির ভাগ অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে থাকে এবং এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব কোম্পানি যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছায়।
বাংলার বিদুৎ বণ্টন সংস্থা হলেও সেখানে আজ বাঙালির কোনো জায়গা নেই, ইঞ্জিনিয়ারিং পদ হোক, প্রশাসনিক পদ হোক কিনবা অন্যান্য পদের কর্মীরা আজ আর বাঙালি নয়। বাঙালি নয়, তার কারণ কিন্তু বাঙালির মেধার অভাব একেবারেই নয়, বরং সুপরিকল্পিত ভাবে বাঙালিকে সরিয়ে অবাঙালি দের ঢোকানোর এক চক্র। যে চক্রের মূল পান্ডা রাজেশ পান্ডে।
প্রথমেই বলে রাখি, বিহার, ইউপি, গুজরাট, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব সহ অন্যান্য সকল রাজ্যে সেখানকার বিদুৎ বোর্ডে ভাষার পরীক্ষা আবশ্যিক, অথবা আছে ভূমিপুত্র দের সংরক্ষণ, কিন্তু বাংলা একমাত্র রাজ্য যেখানে ভাষার ছাঁকনি নেই।

রাজ্য বিদ্যুৎ সংস্থার প্রাক্তন ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজেশ পান্ডে রাজ্য বিদ্যুৎ সংস্থার পরীক্ষার বরাত বা টেন্ডার দেয় চারটি কোম্পানিকে যে চারটি কোম্পানিই ব্ল্যাক লিস্টেড অর্থাৎ এই চারটি কোম্পানির বিরুদ্ধেই ফৌজদারি ধারায় মামলা রুজু আছে CBI এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থায়। যে মামলা করে এনটিপিসির মতো সংস্থা। অন্যান্য সরকারি টেন্ডার ওপেন হলেও এইক্ষেত্রে রাজেশ পান্ডের দয়ায় প্রতিটা টেন্ডার ছিল সিলেকটিভ ।অর্থাৎ এখান থেকেই ভিতরের কোটি কোটি টাকার লেনদেন এর ছবি স্পষ্ট। এই পান্ডের আরো দুই পান্ডা হলো- ভিজিলেন্স অফিসার বি বি রাও এবং এইচ আর ডিরেক্টর সুজয় সরকার।

বি বি রাও ১৯৯৭ সালে যোগ দেন কোম্পানিতে অন্য ১২৭ জন বাঙালি অফিসারের সাথে। কিন্তু অবাক ব্যাপার, আজ তার মাইনে তার সাথে জয়েন করা অন্য অফিসারের মাইনে থেকে প্রায় ৫০,০০০ বেশি। কিন্তু কি স্পেশাল কাজ করেন তিনি? যখনই কোনো বাঙালি অফিসার কোম্পানির দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে, তাকেই ভিজিলেন্স কেসে ফাসানো এনার মূল কাজ।
আজ যদি বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় ভাষার ছাকনি থাকতো, খুব স্বাভাবিক চাকরি গুলো বাঙালির দখলে থাকতো, এটা বুঝেছিল কোম্পানির মধ্যে কাজ করা শিরদাঁড়া সোজা করা বাঙালির একাংশ। তাই তারা ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ এ ইস্যু নম্বর ১৫৩ এই ফাইলে একটি ডেপুটেশন দেয় রাজেশ পান্ডে কে, কিন্তু রাজেশ পান্ডে সেই ডেপুটেশন দেখেননি বলেই খবর।
রাজেশ পান্ডে কে বদলি করা হয় নিয়ম মেনে এবং তার জায়গায় আসেন নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর শান্তনু বোস। কিন্তু রাজেশ পান্ডে এবং বি বি রাও এর স্নেহভাজন সুজয় সরকার তাকে সেই ডেপুটেশন সম্বন্ধে কিছু জানায় না, তার ফল কি?
তার ফল আজকে সিভিল, মেকানিকাল, ইলেকট্রিকাল আর আইটি তে ৯৫% অসংরক্ষিত সিটে বহিরাগতর আগমন, মেধা থাকা সত্বেও বাঙালি ছেলে-মেয়েগুলোকে জোর করে হারিয়ে দেওয়ার এই চক্রান্ত কিন্তু আজ বাংলা পক্ষ সমগ্র বাঙালি জাতির সামনে উন্মোচন করেছে যথেচ্ছ তথ্য প্রমাণ সহ।
আমরা শান্তনু বোসের কাছে এই সকল তথ্য পৌঁছে দেবো, আমরা তার কাছে আবেদন জানাই, অনুরোধ জানাই, বাঙালি ছেলে মেয়েগুলোর সাথে আর এরকম দ্বিচারিতা করবেন না, অন্যান্য রাজ্যে যেখানে ভাষার ছাঁকনি তে বাংলার ছেলেমেয়েরা সুযোগ পায় না পরীক্ষায় বসার, সেখানে বাইরে থেকে এসে পরীক্ষায় বসে, চাকরি নিয়ে চলে যাচ্ছে বহিরাগতরা, বাংলার ছেলেমেয়ে গুলোকে আজ লাখ লাখ টাকা খরচ করে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে মাসে ১০-১২ হাজার টাকার চাকরি করতে বাধ্য করছে এই বাঙালি বিরোধী চক্র।
রুখে দাড়ান, বাঙালি জেগে গেছে, আপনাদের বাঙালি বিরোধী মুখোশ টেনে ছিড়ে ফেলেছে আজ বাংলা পক্ষ।

বাংলার বিদ্যুৎ সংস্থার ৮৬% চাকরির অধিকার বাঙালির এবং একমাত্র বাঙালির, কারণ এই রাজ্যের ৮৬% মানুষ বাঙালি।আমাদের সকলে মিলেই তা সুনিশ্চিত করতে হবে, করতেই হবে। WBSEDCL এর এই বাঙালি বিদ্বেষী নিয়োগ বাতিল করতে হবে এবং বাংলা ভাষার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
জয় বাংলা

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad