জল বাঁচানোর বার্তা নিয়ে শহরে অভিনব পদযাত্রা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Friday, July 12, 2019

জল বাঁচানোর বার্তা নিয়ে শহরে অভিনব পদযাত্রা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি


অভিনব পদযাত্রা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পদযাত্রা থেকে স্লোগান উঠল, ‘‌জল বাঁচান, জীবন বাঁচান’। এই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী গানও লিখেছেন। পদযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে সেই গান শোনা গেল ইন্দ্রনীল সেনের কণ্ঠে। অন্য রাজ্যে এমন পদযাত্রা আগে কখনও হয়নি। মমতাই করে দেখালেন বাংলায়‌। রাস্তার দু’‌ধারে দাঁড়িয়ে–থাকা অসংখ্য মানুষ এই অভিনব পদযাত্রা দেখলেন। অভিনন্দনের ঝড় উঠল।

এটা ছিল সরকারি কর্মসূচি। শুক্রবার পালন করা হল ‘‌জল বাঁচাও দিবস’‌। মমতা এদিন ঘোষণা করেন, ‘‌প্রতি বছর ১২ জুলাই জল বাঁচাও দিবস পালন করা হবে। আসুন, ভবিষ্যতের কথা ভেবে জল সংরক্ষণ করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হই।’‌ মিছিলে এসেছিলেন অনেক অরাজনৈতিক মানুষও। ছিল একাধিক স্কুলের পড়ুয়ারাও। তাদের হাতে ছোট ছোট প্ল্যাকার্ডে লেখা সেই একই স্লোগান—‘জল বাঁচান, জীবন বাঁচান।’ তবে শুধু হাতে প্ল্যাকার্ড নয়। রাস্তার দু’ধারে সারি সারি হোর্ডিং। কোনওটায় লেখা ‘জল না হলে জীবন মরুভূমি’, কোনওটাতে লেখা ‘বৃষ্টির জল ধরে রাখুন’।


এদিন দুপুরে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে পদযাত্রা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, ধর্মতলা হয়ে পদযাত্রা শেষ হয় ময়দানে গান্ধীমূর্তির সামনে। এখানে বক্তব্য পেশ করেন মমতা। মমতার সঙ্গে হাঁটেন মুখ্য সচিব মলয় দে, স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম–সহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টরা। এ ছাড়াও হাঁটেন তৃণমূলের অসংখ্য কর্মী। পদযাত্রা থেকে কোনও রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে, ‘‌জল বাঁচান, জীবন বাঁচান’।

মেয়ো রোডে এই উপলক্ষে মঞ্চ বাঁধা হয়েছিল। সেখানে বক্তব্য পেশ করেন আবুল বাশার, অরিন্দম শীল, মানস ভট্টাচার্য, রাজ চক্রবর্তী, বিমান ব্যানার্জি। শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘‌বাংলার মাটি বাংলার জল’‌ গানটি দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। তাঁর সঙ্গে গলা মেলান সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরজিৎ, জোজো ও প্রণতি ঠাকুর। মঞ্চে ছিলেন শিবাজি চট্টোপাধ্যায়, নিমাই গোস্বামী, তুষার শীল, সুধাংশু দে, ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়, সুবোধ সরকার, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী প্রমুখ। এঁরা সকলেই পদযাত্রাতেও ছিলেন। স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জল নিয়ে একটি লেখা শপথবাক্য হিসেবে পাঠ করানো হয়।

সকলের শেষে বক্তব্য পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‌জল ধরো, জল ভরো’‌ এই প্রকল্পের কাজ আমরা দীর্ঘ দিন করে আসছি। আমাদের সরকার ইতিমধ্যে ৩ লক্ষ পুকুর কেটেছে। চেক ড্যাম তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বন্যার হাত থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া গেছে। জল সংরক্ষণের জন্য আরও সচেতনতার প্রয়োজন। সরকার থেকে আমরা সব করব ঠিকই, কিন্তু মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

এরই মাঝে ধর্মতলা ডোরিনা ক্রসিংয়ের পরেই আবার দেখা গিয়েছে একটি সুন্দর মুহূর্ত। ছোট্ট মেয়ে বাবার কাঁধে চড়ে অপেক্ষা করছিল মিছিলের জন্য। মিছিল সামনে আসতেই বাবার কাঁধ থেকে নেমে সে ছুট দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। হাতে রজনীগন্ধার একটি মালা। সেটি মুখ্যমন্ত্রীর গলায় পরাতে চেয়েছিল সে। মুখ্যমন্ত্রীও সেই ছোট্ট শিশুর কাছে গিয়ে মালাটি নিয়ে তারই গলায় পরিয়ে আদর করে দিয়ে ফের হাঁটা দেন পার্ক স্ট্রিটের দিকে। সেখান থেকে মিছিল ঘুরে চলে যায় গাঁধী মূর্তির পাদদেশে।


No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad