চিত্তরঞ্জন রেল কারখানা বেসরকারীকরণের পথে মোদী সরকার : বিক্ষোভ কর্মচারীদের - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Friday, July 12, 2019

চিত্তরঞ্জন রেল কারখানা বেসরকারীকরণের পথে মোদী সরকার : বিক্ষোভ কর্মচারীদের


দেশের সাতটি রেল কারখানাকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে চিত্তরঞ্জনের জিএম অফিসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করল সেভ সিএলডব্লিউ জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি। ১৩টি শ্রমিক সংগঠনই এদিন যৌথ আন্দোলনে যোগ দেয়। পাশাপাশি কারখানার কর্মীদের পরিবার, চিত্তরঞ্জনের ব্যবসায়ী, অটোচালক, রিকশাচালক থেকে স্থানীয় বহু মানুষ সমাবেশে যোগ দেন। পরে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল কারখানার জেনারেল ম্যানেজার প্রবীণ মিশ্রর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।

চিত্তরঞ্জন রেল কারখানাকে বেসরকারিকরণ রুখতে জুন মাসে সেভ সিএলডব্লিউ অ্যাকশন কমিটি তৈরি করে ১৩টি শ্রমিক সংগঠন। সেই সময় সিদ্ধান্ত হয়, একটাই ব্যানার এবং একমাত্র কালো পতাকার নীচে আন্দোলন হবে। আলাদা কোনও ইউনিয়নের পতাকা বা ব্যানার থাকবে না। সিদ্ধান্ত মতো গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চিত্তরঞ্জন রেল কারখানার বিভিন্ন শপে প্রতিবাদ সভা করা হয়। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন হাজার হাজার রেল শ্রমিক, তাঁদের পরিবার, স্থানীয় ব্যবসায়ী, অটোচালক, রিকশাচালক থেকে সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন।

অবসরপ্রাপ্ত রেল শ্রমিক সংগঠনের নেতা নির্মল মুখোপাধ্যায় বলেন, 'অতীতে চিত্তরঞ্জনে এত বড় সমাবেশ আমার চোখে পড়েনি। সে দিক থেকে আজকের সমাবেশ রেলমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রতিফলন। এই সরকার আসার পর থেকেই চিত্তরঞ্জনে অফলোডিং চলছিল। ধীরে ধীরে এখন বেসরকারিকরণ করে পুঁজিপতিদের হাতে কারখানা তুলে দিতে চাইছে মোদী সরকার। আমরা মনে করি, এটা কিছুতেই কারখানার কর্মীরা মেনে নেবেন না। এর জন্য যত বড় আন্দোলন দরকার দেশজুড়ে আমরা সেই আন্দোলন সংগঠিত করব।'

এলাকার সংসদ সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় অবশ্য বলেন, " চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার বিষয়ে কেন্দ্র যা করতে চাইছে তাতে ভালই হবে" | সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হল নানা দল ও শ্রমিক সংগঠন। তাঁদের দাবি, হিন্দুস্তান কেব্‌লস এবং বার্ন স্ট্যান্ডার্ড, এই দুই কারখানা বন্ধের প্রভাব পড়েছে শিল্পাঞ্চলে। এর পরে চিত্তরঞ্জন কারখানা (সিএলডব্লিউ) বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হলে জেলার অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবু রুজের বক্তব্য, ‘‘এই অঞ্চলে ভরসা ছিল হিন্দুস্তান কেব্‌লস এবং চিত্তরঞ্জন রেল কারখানা। দু’বছর আগে কেব্‌লস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার অর্থনীতি অর্ধেক পঙ্গু হয়েছে। এ বার রেল কারখানার উপরে আঘাত আসতে চলেছে। আমরা তা সমর্থন করি না।’’ জেলা পরিষদের ক্ষুদ্র শিল্প বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমানের বক্তব্য, ‘‘এই কারখানার উপরে এলাকায় অনেক ক্ষুদ্র শিল্প নির্ভরশীল। রাজ্য সরকারের তরফে বেকারদের ঋণ দিয়ে স্বনির্ভরতায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এখন কারখানা বন্ধ বা বেসরকারিকরণের পথে হাঁটলে তা ধাক্কা খাবে। সাংসদের বক্তব্যের বিরোধীতা করছি আমরা।’’

জিতপুর পঞ্চায়েতের প্রধান তাপস চৌধুরী দাবি করেন, ‘‘রেল কারখানার তরফে সামাজিক দায়িত্বপালনে প্রতি বছর সালানপুর ব্লকের নানা গ্রামে উন্নয়নের কাজ হয়। এলাকায় কোথাও আগুন লাগলে কারখানার দমকল বিভাগের ইঞ্জিন ছুটে যায়। সংস্থাটি বন্ধ হয়ে গেলে বা বেসরকারি করা হলে সে সুবিধা মিলবে কি না সন্দেহ।’’

প্রতিবাদে সরব হয়েছে অন্য রাজনৈতিক দলগুলিও। আসানসোলের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরীর অভিযোগ, ‘‘কেব্‌লস কারখানার অভিজ্ঞতা থেকে এলাকার মানুষকে বুঝতে হত। সাংসদের কথায় স্পষ্ট, ওঁরা এলাকাকে শ্মশানে পরিণত করতে চাইছেন। আমরা তা হতে দিতে পারি না। বিক্ষোভ-আন্দোলন চলবে।’’ বারাবনির তৃণমূল বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়েরও দাবি, ‘‘আমরা সাংসদের কথা মানি না। ইতিমধ্যে আন্দোলন শুরু করেছি। বিধানসভার অধিবেশনেও প্রসঙ্গটি তুলে রাজ্য জুড়ে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করব।’’



No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad