এলইডি থেকে ক্যানসার, বাঙালির গবেষণা ঠাঁই পেল ফরাসি রিপোর্টে - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Monday, July 15, 2019

এলইডি থেকে ক্যানসার, বাঙালির গবেষণা ঠাঁই পেল ফরাসি রিপোর্টে

শিশুর হাতে মোবাইল আকছার ঘোরে এখন। রাত জেগে স্মার্ট ফোন বা ট্যাবে চ্যাটের অভ্যাসও এখন ঘরে ঘরে৷ সোশ্যাল নেটওয়ার্কের হাতছানি যে আজকাল আট থেকে আশিতে জাল বিছিয়েছে! এবং তা ক্যান্সারের ভ্রূকুটিকে উপেক্ষা করেই।

গবেষণায় আগেই জানা গিয়েছে, লাইট এমিটিং ডায়োডের (এলইডি) এই নীল আলো ক্যান্সারের অন্যতম নাটের গুরু। এক বঙ্গসন্তানও তাঁর গবেষণায় প্রমাণ করে দিয়েছেন, মোবাইল ডিসপ্লের এই নীল এলইডি আলো ডিম্বাশয়ে ক্যান্সারপ্রবণ টিউমারের জন্ম দিতে পারে। ফলাও করে তাঁর গবেষণাপত্র ছেপেছিল ‘সায়েন্স অফ দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট’-এর মতো বন্দিত বিজ্ঞানপত্রিকা। অসমঞ্জ চট্টরাজের সেই গবেষণাকে সম্প্রতি স্বীকৃতি দিয়েছে আলোক দূষণের ক্ষেত্রে দুনিয়ার অন্যতম মুখ্য প্রবক্তা ফ্রান্স সরকার। ইউরোপের বাইরে একমাত্র গবেষণা হিসেবে বঙ্গসন্তানের সেই কাজ এ বার ঠাঁই পেল ফরাসি সরকারের রিপোর্টেও। বৃহস্পতিবারই সে কথা সরকারি ভাবে জানিয়ে অসমঞ্জকে ই-মেল পাঠিয়েছেন ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থার কর্তা।

বিজ্ঞানী মহলের মতে, রাতে ব্যবহৃত কৃত্রিম আলো বা আর্টিফিশিয়াল লাইট অ্যাট নাইট (অ্যালান) এবং তার সঙ্গে শারীরবৃত্তীয় সম্পর্ক নিয়ে এত মৌলিক কাজ আগে হয়নি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। আগের প্রায় সব ক’টি কাজই হয়েছে মূলত ইউরোপে, কয়েকটি মাত্র মার্কিন মুলুকে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, বছর দেড়েক আগে ইংল্যান্ডের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয় ও বার্সেলোনা ইউনিভার্সিটি অফ গ্লোবাল হেলথের করা একটি যৌথ গবেষণা, যাতে নীল আলোর ক্যান্সারের জন্ম দেওয়ার ক্ষমতার কথা প্রমাণিত হয়েছিল। কী ভাবে এই নীল আলো ক্যান্সারপ্রবণ টিউমারের জন্ম দিচ্ছে, তা পরে প্রকাশ্যে আসে অসমঞ্জের নেতৃত্বে ইম্ফলে হওয়া এই গবেষণায়।


কেন্দ্রীয় জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের অধীন ইনস্টিটিউট অফ বায়ো-রিসোর্সেস অ্যান্ড সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্টে বছর দেড়েকের গবেষণায় নয় গবেষকের ওই দলটি বুঝতে পারে, কেন ও কী ভাবে জেব্রাফিশের ডিম্বাশয়ে টিউমার তৈরি করছে এলইডি-র নীল আলো। টানা এক সপ্তাহ, এক মাস ও এক বছর নীল আলোর আওতায় জেব্রাফিশকে ফেলে দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জেব্রাফিশের জৈবিক ঘড়ির চোখ পড়ার মতো পরিবর্তন হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, মেলাটোনিনের মতো ঘুমের সহযোগী হরমোনের মাত্রা কমে যাচ্ছে মস্তিষ্ক, রেটিনা, ডিম্বাশয় ও সিরামে। এমনকী, ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে এনএফ-কাপ্পাবিটা ও টিএনএফ-আলফা নামের দু’টি রাসায়নিক যেগুলির বৃদ্ধি আবার সরাসরি টিউমার জন্মানোর নেপথ্যে দায়ী। ফলে টিউমারও তৈরি হচ্ছে ডিম্বাশয়ে।

বর্তমানে আসানসোলের কাজি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান পদে কর্মরত অসমঞ্জ বলেন, ‘চিন্তার সবচেয়ে বড় কারণ হল আলোর রং৷ কারণ, ক্ষুদ্রতম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের এই দৃশ্যমান নীল আলোর সবচেয়ে বড় উৎস যা, সেই এলইডি এখন সকলের রোজনামচায় ওতপ্রোত ভাবে জড়িত৷ জেব্রাফিশের সঙ্গে মানুষ-সহ উচ্চতর মেরুদণ্ডী প্রাণীদের এত শারীরবৃত্তীয় মিল যে, গবেষণালব্ধ এই ফল সবার বিপদের ইঙ্গিতবাহী।’ অর্থাৎ স্পষ্ট, এলইডি-র নীল আলোর এই ক্ষতি মানুষের জন্যও একই রকম বিপজ্জনক।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানপত্রিকায় এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হওয়ার পর তা ফরাসি সরকারের কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থার চোখে পড়ে। তার পরই ফ্রান্সের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের তরফে প্রধান গবেষক জ্যাক ফ্যালকন দিল্লিতে যোগাযোগ করে জানান, অসমঞ্জদের গবেষণাকে তাঁরা ‘এজেন্সি ফর ফুড, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড অকুপেশনাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি’র প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। কেননা, তাঁরা মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্রের উপর এলইডি ও কৃত্রিম আলোর কী প্রভাব, তা নিয়ে বিস্তারিত কাজ করতে আগ্রহী। কারণ, এলইডির প্রভাবে ডিম্বাশয়ের টিউমার নিয়ে এমন তথ্যপঞ্জি অভূতপূর্ব। সেই প্রকল্পের রিপোর্টই গত সপ্তাহে পেশ হয়েছে ফরাসি সরকারের কাছে, যা ইংরেজিতে বই আকারে বেরোবে বলে খবর এ দেশের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে। বৃহস্পতিবার ই-মেল করে সে কথাই ফ্যালকন সরকারি ভাবে জানিয়েছেন অসমঞ্জকে।


No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad