বৃষ্টি নেই, ব্যাপক ক্ষতির মুখে রাজ্যে ধান, পাটের চাষ - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Monday, July 22, 2019

বৃষ্টি নেই, ব্যাপক ক্ষতির মুখে রাজ্যে ধান, পাটের চাষ

আষাঢ় পেরিয়ে হাজির শ্রাবণ। কিন্তু এখনও গরহাজির বর্ষা। কপাল পুড়েছে দক্ষিণবঙ্গের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিন্তার ভাঁজ আরও বাড়ছে কৃষকদের কপালে। খাল, বিল, নদী শুকিয়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত জলের অভাবে বিপর্যয়ের মুখে আমন চাষ। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বীজতলা। এ সময় অন্য বছর আউশ ধান রোয়া শেষ হয়ে যায়। আর আমন ধানের বীজতলা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় আউশ রোয়া যাচ্ছে না। একইসঙ্গে আমনের বীজও তোলা যাচ্ছে না। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলার সর্বত্র ধানচাষের ছবিটা এমনই। একইসঙ্গে বৃষ্টির অভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হুগলির পাটপাষও। 

হুগলি জেলায় জুন মাসে বৃষ্টির ঘাটতি ৮৭.৫৩ শতাংশ। জুলাইয়ে তা ৮৪ শতাংশ। গত ২৫ বছরের হুগলি জেলার গড় বৃষ্টিপাত ছিল ৩০০ মিমি। সেই হিসেবে এবার আমন চাষের ভরা মরশুমে ৫৬ শতাংশ বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় জেলার ধানচাষিরা। জেলায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় ধান রোয়া শুরু করা যায়নি। বীজতলা তৈরি হয়ে গেলেও ধান রোয়া যাচ্ছে না। নদী, খাল, বিলেও পর্যাপ্ত জল না থাকায় কৃত্রিম সেচের সাহায্যে যে চাষ হবে তারও উপায় নেই। তারকেশ্বরের কৃষক প্রবীর নাগা, প্রভাত মাঝি নবকুমার ঘেটুরা জানিয়েছেন, জলের অভাবে অধিকাংশ চাষের জমিতে ধান রোয়া বন্ধ। অনেক বেশি খরচ করে কৃত্রিম সেচের জল ব্যবহার করে কিছু পরিমাণ জমিতে ধানের চারা রোয়া হলেও, বৃষ্টির জল না থাকায় সে সমস্ত জমি ফেটে গাছের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে।

ব্যাপক সমস্যায় পাটচাষিরাও। জলের অভাবে পাট পচানো যাচ্ছে না। উৎপাদিত পাট নিয়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। ডিভিসি–র জল পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে শুক্রবার বর্ধমানে বৈঠকে ডাকা হয়েছে বিভিন্ন জেলার কৃষি আধিকারিকদের। জেলা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে চাষিদের স্বল্পমেয়াদি ধানচাষ করতে বলা হচ্ছে। ধাপে ধাপে বীজতলা তৈরি করা, প্রয়োজনে সুধা পদ্ধতি অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। যাতে জলের ব্যবহার কম হয়। তবে এর জেরে চাষের খরচ বাড়তে পারে। জেলা কৃষি অধিকর্তা অশোক তরফদার জানিয়েছেন, একমাত্র ভারী বৃষ্টিই এইসব সমস্যার সমাধান করতে পারে।



No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad