স্বাস্থ্য ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দায় এড়াতে পারে না সরকার বা ডাক্তার কেউই! - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Saturday, June 15, 2019

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দায় এড়াতে পারে না সরকার বা ডাক্তার কেউই!

এন আর এস হাসপাতালে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখার্জীকে আক্রমণ করে রোগীর পরিবার, সাথে ছিল স্থানীয় গুন্ডারা। ট্যাংরা থেকে প্রায় ৬০-৭০ জন এসে মেরে মাথার খুলি ফুটো করে দেয় পরিবহর, বর্তমানে মল্লিকবাজারের নামী নিউরো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভয়ঙ্কর ভাবে মারা হল জুনিয়র ডাক্তারকে।


তারপর থেকে উত্তাল এন আর এস, ধর্মঘট ডাকে জুনিয়র ডাক্তাররা। এরপর আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যজুড়ে। আঁচ পড়ে অন্যান্য রাজ্যেও। নানা হাসপাতালে চিকিৎসা প্রায় বন্ধ। প্রথম দুদিন ইমার্জেন্সিও প্রায় বন্ধ ছিল। এখন তা খুললেও প্রায় সর্বত্র আউটডোর বন্ধ। আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে ইস্তফা দিয়েছেন একের পর এক ডাক্তার। 

সরকারের দাবি তারা প্রথমেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। এফ আই আরে নাম থাকা পাঁচ জনই গ্রেপ্তার হয়েছে। তারা জামিন পায়নি কোর্টে, পুলিসি হেফাজতে আছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিম ভট্টাচার্য প্রথম দিনই এন আর এসে গেছিলেন। পরিবহর চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা করেছে সরকার। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস নিয়ে গেছিলেন কলকাতা পুলিস কমিশনারও। আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনেছে সরকার, সেই দাবি করেই প্রেস কনফারেন্স করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবেদন জানালেন স্বাস্থ্য পরিষেবা স্বাভাবিক করার। ডাক্তারদের অবিলম্বে কাজে যোগ দিতে বললেন। নবান্নে আলোচনার জন্য জুনিয়র ডাক্তারদের ডাকা হলেও যাননি কেউই, পরপর দুদিন অপেক্ষা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে, গত ১৩ ই জুন এস এস কে এমে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি ডাক্তারদের হুমকি দেন, বহিরাগত বলেন। এমনকি কাজে যোগ না দিলে ৪  ঘন্টার মধ্যে হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেন। এতেই সমস্যা বাড়ে। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করে মিটিয়ে নিতে পারতেন, সেখানে তাঁর বেফাঁস কথাতেই আগুনে ঘি পড়ে। এমনকি তিনি বলেন, ডাক্তাররা কেউ কেউ রোগীর পদবী দেখে চিকিৎসা করেন। এতেই অপমানিত হন ডাক্তাররা। হুমকিও হজম করতে পারেনি ডাক্তাররা। আন্দোলন আরও তীব্র হয়।

নিরাপত্তার আশ্বাস নয়, দোষীদের গ্রেপ্তার নয়, মুখ্যমন্ত্রীকে এন আর এসে গিয়ে আন্দোলনকারীদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে- এই দাবিই মুখ্য হয়ে যায়। নিরাপত্তার আশ্বাস ব্যাপারটা গৌণ হয়ে যায়। চলে ইগোর লড়াই।

দুই পক্ষের ঝামেলার মাঝে ভুগছে সাধারণ মানুষ। গরীব ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ ভুগছে। শিশু সহ অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা অচল, বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার যাদের সাধ্য নেই, তারা মরছে বিনা চিকিৎসায়।

এর দায় কে নেবে? ঘোলা জলে অনেকেই মাছ ধরল। বেসরকারি হাসপাতাল ও ওষুধ কোম্পানী ফুলে ফেঁপে উঠল। তাদের পোয়া বারো। বেসরকারি হাসপাতালে তো কোনো কর্মবিরতি নেই। রোগীরা অনেকেই বেসরকারিতে ছুটতে বাধ্য।

দোষী কারা? সরকার? আন্দোলনকারীরা?

এর দায় কিন্তু দুপক্ষকেই নিতে হবে। সরকার দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করেনি কেন? চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক রাখা সরকারের দায়িত্ব। আর, একটা পরিবহর রক্তের জন্য এত শয়ে শয়ে রোগীর রক্ত কেন খেল ডাক্তাররা? প্রশাসনের প্রধান হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী এভাবে ভুলভাল বকতে পারেন না, তাঁকে মন্তব্য করার সময় অনেক সতর্ক হতে হবে। এবং ডাক্তারদের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বুঝতে হবে।

ভবিষ্যতে এ জিনিস যাতে না হয়- সতর্ক থাকুক সব পক্ষই।
ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একান্ত জরুরী। জরুরী ডাক্তারদের রোগীর সাথে ভালো ব্যবহার করা ও মানবিক হওয়াও।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad