"'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্পে অংশ নেবে না বাংলা"- ঘোষণা মমতার - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Friday, January 11, 2019

"'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্পে অংশ নেবে না বাংলা"- ঘোষণা মমতার


কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত তীব্রতর করে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প থেকে রাজ্যকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বললেন,"কেন্দ্র এই প্রকল্প এই রাজ্যে চালাতে চাইলে তাকেই এর পুরো টাকা দিতে হবে।আমার রাজ্য ৪০% টাকা দেবে না।" 
নবান্ন থেকে এ সংক্রান্ত চিঠিও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে। এর আগে কৃষিবিমা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রকে বাদ দিয়ে ‘একলা চলো’র সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে কেন্দ্রের অন্যান্য প্রকল্প থেকেও রাজ্যকে সরিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যাঙ্ক থেকে সাধারণ মানুষের টাকা ‘সরিয়ে’ নেওয়ার চক্রান্ত করছে। সেই সঙ্গে অ-বিজেপি রাজ্যগুলিকে ‘সতর্ক’ করে মমতা বলেন, ‘‘কেন্দ্র সমস্ত টাকা অপব্যবহার করছে। রাজ্যের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে।’’

এ দিন নদিয়ার কৃষ্ণনগরে প্রশাসনিক সভায় গোড়া থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘সব কাজ আমরা করব, আর তুমি নরেন্দ্র মোদী দালালি করবে? বাড়ি বাড়ি চিঠি পাঠাচ্ছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া। কার্ড পাঠাচ্ছে। সেটা নাকি স্বাস্থ্যবিমার কার্ড। অথচ ওতে রাজ্যের টাকা আছে। টাকা দিচ্ছি আমরা, আর সেই টাকায় তুমি, নরেন্দ্র মোদী প্রচার চালাবে? এটা হতে পারে না। আমি রাজ্যকে সরিয়ে নিলাম। এ বার দেখি তুমি কী ভাবে টাকা দাও!’’ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, স্বাস্থ্যবিমার জন্য রাজ্য ৮০% টাকা দেয়, কেন্দ্র দেয় মাত্র ২০%। অথচ রাজ্যকে ‘সম্পূর্ণ অন্ধকারে’ রেখে কেন্দ্র এমন ভাবে প্রচার করছে, যাতে মনে হচ্ছে, পুরো প্রকল্পটাই কেন্দ্রের। শুধু তা-ই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাড়ি বাড়ি কেন্দ্র যে চিঠি পাঠাচ্ছে, তার উপরের লোগোটিও বিজেপির প্রতীক ‘পদ্মফুল’এর মতো। মমতার কথায়, ‘‘লোগোটা দেখবেন, যেন পদ্মফুল ওদের। আমাদের পুজোর পদ্মফুল নয়। ওদের ধান্দাবাজির, দুর্নীতির, দেশে বিভেদ সৃষ্টির পদ্ম।’’  
এ দিন দিল্লিকে পাঠানো নবান্নের চিঠিতে স্পষ্টই বলা হয়েছে যে, ২০১৭ সাল থেকে রাজ্যে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প চলছে। কেন্দ্রের সঙ্গে মউ সইয়ের সময় রাজ্য জানিয়েছিল, তারা প্রকল্পটির নাম ‘স্বাস্থ্যসাথী’ই রাখবে। কেন্দ্র তা মেনেও নিয়েছিল। অথচ বাড়ি বাড়ি যে চিঠি ও কার্ড কেন্দ্র পাঠাচ্ছে, তাতে ‘স্বাস্থ্যসাথী’র উল্লেখ নেই। 
মমতা এদিন বলেন,"কেন্দ্র তুমি আমার রাজ্য থেকে ৪০-৫০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছ। ইনকাম ট্যাক্সের টাকা,সেলস ট্যাক্সের টাকা কাস্টমসের টাকা। সেই টাকা থেকে একটা ছোট্ট অংশ তুমি আমাদের ফেরত দাও। এখন তুমি মাছের তেলে মাছ ভাজছ ?"
উল্লেখ্য, এর আগে মমতা জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রকে কোনও তথ্য দেবে না রাজ্য। শুধু তা-ই নয়, রাজ্যে তদন্তের ক্ষেত্রে সিবিআইয়ের ‘সাধারণ অনুমোদন’ও বাতিল করেছেন মমতা।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad