বাংলার নানা এলাকায় বজরং দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে তৃণমূল; টাকার খেলায় জড়িত সবাই - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, December 4, 2018

বাংলার নানা এলাকায় বজরং দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে তৃণমূল; টাকার খেলায় জড়িত সবাই

পুরুলিয়া শহরে ও সংলগ্ন কিছু গ্রামে সাম্প্রতিক কালে বজরং দলের সংগঠন বেড়েছে, বিশেষত হিন্দিভাষী যুব সমাজের মাঝে। শহরে তাদের মিছিলও হয় বড়। কিছু বাঙালি ছেলেও এতে যোগ দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এতে চিন্তার কারণ দেখছেন না। তাতে কিছুটা অবাক লাগলেও কিছু তথ্যে উঠে আসছে তৃণমূলের রিল্যাক্স থাকার কারণ। যা জানা যাচ্ছে যে পুরুলিয়া শহরের বজরং দল একরকম তৃণমূলের বি টিম।














বজরং দল যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনামুলক ডিজে বক্স বাজিয়ে ছেলেদের চাঙ্গা রাখে, কোথা থেকে আসে সে ডিজে বক্স? সে ডিজে বক্স আসে তৃণমূলের গণেশ অধিকারীর থেকে। এটা কি তিনি নিজ উতসাহে করেন না? একদমই না। এলাকায় তৃণমূলের নেতৃত্বের সাথে বজরং দলের স্থানীয় মাথাদের নিয়মিত গোপন মিটিং হয়। এবং যার ফলে এই সব ডিজে বক্সের খরচা আদৌ বজরং দলকে দিতে হয়না। বাংলার চোখের তদন্তে উঠে এল এরকমই চাঞ্চল্যকর তথ্য।


এই সংযোগ আরও পরিষ্কার হয় সাম্প্রতিক কালে বজরং দলের জনপ্রিয় নেতা গৌরব সিং-এর কার্যকলাপে। ইনি এলাকায় এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতেন। এক সময় সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর জেলা কমিটিতে থাকা গৌরব সিপিএমের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ খুঁজছিলেন। এলাকায় বজরং দল ছিল না তেমন। বিজেপির সাহায্যে গড়ে ওঠে বজরং দল এবং তার নেতৃত্বে থাকেন একদা বামপন্থী গৌরব সিং। কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। বিজেপির সাহায্যে গড়ে উঠলেও এই এলাকায় বজরং দলটিকে তৃণমূলের লোকেরাই দখলে নেয় এবং নিয়ন্ত্রণ করে। এই গৌরব সিং বজরং দল হয়ে পুরুলিয়ায় নানা স্থানে গুণ্ডামি করে। এর ফলে তাকে জেলে যেতে হয়। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়েই সে যোগ দেয় তৃণমূলে। সে সংযোগ ছিল আগে থেকেই ভিতরে ভিতরে, তা  এখন পরিস্কার ভাবে দিনের আলোয়। বাংলার নানা এলাকায় বজরং দল যেভাবে উগ্র স্লোগান দেয়, ডিজে বাজায়, এবং সেটা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন যে বাধা দেয়না, তাতে বোঝা যায় যে তৃণমুলই এই রাজ্যে বজরং দলকে কন্ট্রোল করছে। এর উদাহরণ হিসেবে বিজেপির রাজ্য নেতা এবং একদা অকলুষিত বজরং দলের একজন যোদ্ধা রঞ্জিত সরকার বলেছেন, "পুলিশ বজরং দলের ছেলেদের বিরুদ্ধে কোন একশন নেয় না। নিলেও হাল্কা কেস দেয়। কেস দিলে ছেড়ে দেয়। আর খুব খারাপ কেস হলে, জেলে দিয়ে, মেয়াদের আগে কেস তুলে নিয়ে ছাড়িয়ে নেয়। গৌরব সিং তো সরাসরি তৃণমূলে যোগ দিল। এ নিয়ে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব জানে। কিন্তু এমনভাবে তৃণমূল ঢুকে পড়েছে বজরং দলে যে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হবে।" 


গৌরব সিং -এর ঘটনা অনেক বজরং দল সমর্থকদের চোখ খুলে দিয়েছে। তাদেরই একজন, পুরুলিয়ার আশিস মাহাতো  বললেন, "আমি বজরং দল সমর্থন করতাম। আমি পার্টি পলিটিক্স করিনা। বিজেপি না। তৃণমূল না। কিন্তু হিন্দু অধিকারের জন্য আছি। কিন্তু কদিনেই বুঝলাম, এলাকায় বজরং দল তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ রেখে চলে। এমনকি এলাকার বিজেপি নেতারাও চুপ কারণ তারাও তৃণমূলের থেকে টাকা খায়। আমি বজরং দল ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের ভালো ভালো কাজকর্মে থাকি। যে ডিজে মিছিলে আমি যেতাম,   ডিজে বক্সের ভাড়াও তৃণমূল দেয়। আমাদের বোকা বানানো হয়েছে। শুধু আমাকে না, আমার মত অনেককে। এবং যেহেতু টাকার খেলা, এতে বিজেপি নেতারাও জড়িত। ঠিক যেমন সিপিএমের সময় কংগ্রেসকে এখানে কিনে রাখা হত আবার সিপিএমই তাদের রাজনৈতিক কার্যকলাপের খরচা যোগাত। এখানকার সকল বিজেপি নেতা তৃণমূলের থেকে নানা প্রকল্পের কাটমানি পায়।" অনেক যুবকই এসব দেখে নিজেদের প্রতারিত বোধ করছেন।              


এই ঘটনা বাংলার অন্যান্য জায়াগাতেও হচ্ছে। কারণ বজরং দলের উগ্র কাজকর্মে হিন্দুদের একটা বড় অংশের সায় নেই। তাই বজরং দল যত বড় হবে, কিছু সংখ্যক উৎসাহী যুবক ছাড়া বাকিরা বিজেপির প্রতিই বীতশ্রদ্ধ হয়ে যাবে। এবং সেটা ঘটছেও। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, নানা জায়গায় বজরং দল "ভারতীয় সংস্কৃতি" রক্ষার নামে প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলদের তাড়া করে এবং যুবতীদের শ্লীলতাহানি করে। এতে বজরং দলের নাম তো খারাপ হয়েছেই, খারাপ হয়েছে বিজেপির নাম। এর পিছনেও কি তাহলে তৃণমূল? সম্ভাবনাতা মোটেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। 

     

 আগে যখন পুরুলিয়ায় বজরং দল ছোট ছিল, তখন এটা নিয়ন্ত্রণ করত ঝাড়খণ্ডের বিজেপি এবং স্থানীয় মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তৃণমূল যবে থেকে এটিকে কব্জা করল, তবে থেকে হুহু করে বাঙালি যুবকরা ঢুকতে থাকে। প্রথমে বিজেপি সেটা বুঝতে পারেনি। যখন বুঝল, তখন খুব দেরি হয়ে গেছে। এই ঘটনা ঘটেছে বাংলার নানা জেলায়। দিশেহারা হয়ে বজরং দলের নানা এলাকার শাখা ভেঙ্গে দিয়েছে বিজেপি। কিন্তু তবুও বজরং দলের ব্যানার, পতাকা ও ফেস্টুন নিয়ে কার্যকলাপ চলছে। উস্কানিমুলক নানা বক্তব্যে কিছু সংখ্যক মানুষ  আগ্রহ দেখাচ্ছে কিন্তু বড় সংখ্যক মানুষ বীতশ্রদ্ধ হচ্ছেন। বিজেপি পড়েছে সংকটে। তারা বজরং দলকে না পারছে ফেলতে, না পারছে গিলতে।            

           

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad