বাংলায় বিজেপির মিডিয়া ইন চার্জ সপ্তর্ষিকে লাথি মারার হুমকি দিল বিজেপির চন্দ্র কুমার বসু - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, December 4, 2018

বাংলায় বিজেপির মিডিয়া ইন চার্জ সপ্তর্ষিকে লাথি মারার হুমকি দিল বিজেপির চন্দ্র কুমার বসু

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবারের রক্ত যার ধমনীতে বইছে, বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করা সেই চন্দ্র কুমার বসু যখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন বেশ একটা আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছিল। খুব দ্রুত তিনি চলে আসেন পাদপ্রদীপের আলোয়, যখন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি বিজেপি প্রার্থী হন। যদিও ভোটে তিনি খুব খারাপ ভাবে হারেন, বাংলার বিজেপির জনপ্রিয় মুখ হিসেবে মিডিয়াতে এবং বিজেপির বাঙালি সমর্থকদের তার একটি গ্রহণযোগ্যতা আছে। কারণ এই নেতাজী ক্যারিস্মা নেই দলের আর কারুর। এছাড়া স্পষ্টবক্তা হিসেবে এবং বিজেপির কিছু অন্য নেতার মত মুখে অশ্লীল কথা বলেন না বলে তার ভাবমূর্তি স্বচ্ছ।


এহেন ব্যক্তিই বিজেপির মিডিয়া ইন চার্জ সপ্তর্ষি চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন প্রকাশ্যে, তাও আবার সামাজিক মাধ্যমে। চন্দ্র কুমার বসু টুইট করে বলেন বিজেপির জনপ্রিয় টিভিমুখ সম্বিত পাত্রকে। তিনি বলেন যে বাংলার অকর্মণ্য বিজেপি মিডিয়া টিমকে এক্ষুনি বরখাস্ত করা হোক। তিনি শুধু সম্বিত পাত্র না, এই ক্ষোভ একই টুইটে জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, অমিত শাহের আত্মীয় এবং বিজেপি নেতা অরুণ শাহ, অরবিন্দ মেনন, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তথা বিজেপি, ভারতীয় জনতা যুব মরচা এবং ভারতীয় জনতা যুব মরচা - বাংলা শাখাকে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, "কে এই অপদার্থ ( উনি রাবিশ কথাটি ব্যবহার করেন) মিডিয়া টিমকে নিয়োগ করেছে? আমাদের একটা ভালো টিম দরকার।" তিনি সম্বিত পাত্রকে বলেন বাংলার বিজেপির মিডিয়া ইন চার্জ সপ্তর্ষি চৌধুরীকে বরখাস্ত করতে নাহলে চন্দ্র কুমার বসু নিজেই সপ্তর্ষিকে লাথি মেরে বাংলা থেকে বার করে দেবেন। নিচে সেই বিতর্কিত টুইটের ছবি।          


এই ঘটনার পরে রাজ্য বিজেপিতে সোরগোল পড়ে যায়। সম্বিত পাত্রর স্নেহধন্য সপ্তর্ষি চৌধুরী। তাই জন্যেই কি খোদ সম্বিত পাত্রকে তার নামে নালিশ করলেন চন্দ্র কুমার বসু? সম্বিত পাত্র এই নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি এবং সপ্তর্ষি চৌধুরীও সম্বিত পাত্রের নির্দেশমত এই ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। 

    

কিন্তু এই ঘটনার সুত্রপাত আসলে দিল্লীতে। দিল্লীতে যাতায়াত আছে সপ্তর্ষি চৌধুরীর। সেই সুবাদে দিল্লীতে বিজেপি হাই কম্যান্ড, বিশেষত সেখানকার শক্তিশালী ব্যবসায়ী লবির সাথে তার সম্পর্ক ভালো। এই লবিই বিপদে আপদে বিজেপিকে টাকা যোগায়। ফলে তাদের চেনা একজনকে এই রকম অপমানের পিছনে অন্য খেলা থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষত কেন্দ্রীয় বিজেপির অভ্যন্তরে যে ফরেন কোম্পানির লবি আছে, তাদের খুব ঘনিষ্ঠ সিদ্ধার্থ নাথ সিংহ, যার আবার অতি ঘনিষ্ঠ হলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। চন্দ্র বসু বাংলায় বিজেপিতে লকেট লবির। ফরেন লবি নানা জায়গায় বিজেপির মধ্যে দিল্লীর ব্যবসায়ী লবির ডানা ছাঁটতে চায়, কারণ তারা বিজেপির জিএসটি, নোটবাতিল তথা অন্যান্য ব্যবসার জন্য ক্ষতিকারক সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলের অন্দরে। 

    

কিন্তু এই ঘটনায় সবচেয়ে চিন্তিত বিজেপির আইটি সেল। বিজেপির আইটি সেলের যে হাজার হাজার কর্মী বাংলায় নিয়োজিত, তাদের মাসিক পারিশ্রমিক বৃদ্ধি নিয়ে সম্প্রতি দলে আলোচনা হয়েছে। তারা দেওয়ালিতে বোনাস পাননি। বোনাসের টাকা দিল্লী থেকে এসেছিল কিন্তু সেই টাকা লোপাট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ। নাম না করে প্রায়শই মদ্যপ এক প্রাক্তন অভিনেতা এবং অধুনা বিজেপি নেতার দিকে আঙ্গুল তুলছেন অনেকেই। এই ধরনের দুর্নীতির ফলে আইটি সেলের মাইনেও কিছুটা অংশ কেটে বাকিটা দেওয়ার যে রেওয়াজ চালু হয়েছে, তাতে তিতবিরক্ত আদর্শবাদী কর্মীরা। ফলে অনেকে আইটি সেল ছেড়েও দিয়েছেন। এদিকে আইটি সেল ( যাদেরকে বিজেপির সাংগঠনিক ভাষায় বলে বিস্তারক) কর্মীদের মধ্যে প্রচণ্ড জনপ্রিয় সপ্তর্ষি। এই দুর্নীতির দিকেই কি ইঙ্গিত করেছেন চন্দ্র কুমার বসু? আইটি সেলের বাকি কর্মীরাও শঙ্কিত কারণ সপ্তর্ষি চৌধুরীকে মিডিয়া ইন চার্জের পদ থেকে সরিয়ে দিলে লকেট লবি তাদের নিজেদের ছেলেদের আইটি সেলে ঢোকানোর জন্য একরকম তৈরিই হয়ে আছে।         


চন্দ্র কুমার বসু রাজ্য বিজেপিতে লকেট গোষ্ঠীর অনুগামী বলে পরিচিত। চন্দ্র কুমার বসুকে বিজেপিতে ঢোকানোর পিছনেও লকেট লবির হাত ছিল। সম্প্রতি লকেট চট্টোপাধ্যায়ের "বিশেষ ঘনিষ্ঠ" সিদ্ধার্থ নাথ সিং আবার ইউপি থেকে বাংলায় সংগঠন সামলাবার জন্য নিযুক্ত হয়েছেন। নানা মঞ্চে চন্দ্র কুমার বসু, লকেট চট্টোপাধ্যায় ও সিদ্ধার্থ নাথ সিংহকে একসাথে দেখা যেত আগে। আবার সেই দিন ফিরছে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। সিদ্ধার্থের প্রত্যাবর্তনে রাজ্য বিজেপিতে লকেট লবির জোরই বাড়ল বলে মনে করছে বিজেপির অন্দরমহল। সেই কারণেই কি চন্দ্র কুমার বসু নিজ দলের মিডিয়া ইন চার্জকে লাথি মেরে বাংলা থেকে বের করে দেবেন, সেটা প্রকাশ্যে বলার সাহস পেল? শৃঙ্খলা ভিত্তিক দল বলে পরিচিত বিজেপি এখন চন্দ্র কুমার বসুর বিরুদ্ধে কোন একশন নেয় কিনা, সেটাই দেখার। কিন্তু এ ব্যাপারে সপ্তর্ষি শিবির হতাশ। সপ্তর্ষি শিবির বুঝতে পারছে যে লকেট লবির জোরই এখন বাংলার বিজেপিতে বেশি, বিশেষত সিদ্ধার্থ নাথ সিংহ বাংলার ভার পুনর্বার সামলানোর পর থেকে। এই সিদ্ধার্থ নাথ সিংহই বলেছিলেন "ভাগ মুকুল ভাগ"। মুকুলপন্থী লবি তখনও তলে তলে বিজেপির লকেট বিরোধী লবির সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছিল। তাদেরই সক্রিয়তায় তারপরে সিদ্ধার্থ নাথ সিংহকে বাংলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পথ প্রশস্ত হয়।      

   

বিজেপির প্রচার একরকম হলেও বাংলায় বিজেপির মধ্যে যে কোঁদল তুঙ্গে, তা এখন প্রকাশ্যে। কদিন আগেই বিজেপির এক কর্মীসভায় লাঞ্ছিত হয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ নিজ দলের দামাল কর্মীদের হাতেই। সারদা ও নারদা কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত মুকুল রায়ও পুরনো বিজেপি কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন একাধিক জায়গায়। তৃণমূল ও সিপিএমের বিক্ষুব্ধ কিন্তু চরম দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা বিজেপিতে ঢুকে যেরকম ভাবে দলটিকে ক্যাপচার করছে, তাতে বিজেপির পুরনো কর্মীরা বুঝছেন যে তাদের খাটনির লাভের গুড় খেয়ে যাবে এই তৃণমূল ও সিপিএম থেকে আসা নব্য-বিজেপিরা, যারা দলের আদর্শের কোন ধার ধারে না। 

   

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad