হিন্দু বিধবাকে গুজরাটি বিজেপি নেতার বার বার ধর্ষণ ও নগ্ন ছবি তোলা! ফল প্রায় পাগল আজ সেই নারী। - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Saturday, November 24, 2018

হিন্দু বিধবাকে গুজরাটি বিজেপি নেতার বার বার ধর্ষণ ও নগ্ন ছবি তোলা! ফল প্রায় পাগল আজ সেই নারী।

রামজন্মভূমি আন্দোলনের পরিচিত গুজরাটি মুখ, গুজরাটের  অত্যন্ত প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ছবিল প্যাটেল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতা গুজরাটের "পাচু পাঞ্জাউ" অর্থাৎ পাঁচ হাতের একজন বলে খ্যাত। এলাকায় প্রথম রাম নবমী ডিজে মিছিলের প্রবর্তকও তিনি। বিজেপির তারকা বিধায়কও বটে। এলাকায় হিন্দু সংস্কৃতি জাগ্রুতি সভার পৃষ্ঠপোষক। তাই আমেদাবাদের নিকটে সোলা এলাকার মানুষ যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে তাদের প্রিয় ছবিল ভাই ধর্ষণ করেছেন দিনের পর দিন, নগ্ন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করেছেন, এমনকি নিজের বাড়ি থেকে কাছের মেয়েদের ইস্কুলে উচ্চমানের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা - সবেতেই উঠে এসেছে যেন অন্য এক মানুষের কথা। কিন্তু একই মানুষ এই গুজরাটি বিজেপি নেতা ছবিল মেহতা এবং বিকৃতকামী ধর্ষণে অভিযুক্ত ছবিল মেহতা। এই পুরো ব্যাপারটি সামনে এনেছেন এক হিন্দু নারী, যিনি দুর্ভাগ্যক্রমে বিধবা। পরোপকারী এই নারীকে তার এনজিওকে টাকা এনে দেওয়া নিয়ে মিথ্যা কথা বলে ছবিল মেহতা এই নারীকে গুজরাট থেকে দিল্লীতে আনতে সক্ষম হয় - কেন্দ্রীয় সরকারের উপর মহলের বিজেপি নেতাদের সাথে দেখা করিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে।

তারপর পশ্চিম দিল্লীর একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে এই মহিলাকে নিয়ে যায় ছবিল। প্রথমে চায়ের সাথে মাদক মিশিয়ে মহিলাকে বলহীন করে দেয় ছবিল। কিন্তু এর পরে ঘটনা আরও মারাত্মক রূপ নেয়। ধর্ষণ করে ছবিল। এবং এই সময়ে ধরা পড়ে যায় ছবিলের শারীরিক অক্ষমতা। এতে আরও হিংস্র হয়ে ওঠে ছবিল। বয়ান দিতে দিতে এক সময় আক্রান্ত নারী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। উনি বলেন - " ও আমার থেকে ৭ লাখ টাকাও নিয়েছে। আমাকে বলেছিল হিন্দুদের সংগঠিত করার জন্য। পরে জেনেছি যে তার মধুচক্রে যাওয়া আসা আছে। আমিও নরেন্দ্র মোদীকে ভোট দিয়েছি। আমি ওনার কাছেই বিচার চাই। ছবিল গুজরাটে মোদীর কাছের মানুষ বলেই পরিচিত।" গুজরাট রাজ্য মহিলা কমিশন যদিও এই ব্যাপারে বিবৃতি দেয়নি বিরোধী দলগুলির, বিশেষত কংগ্রেসের প্রবল চাপ থাকা সত্ত্বেও। ধর্ষণের সময়ে ভয় দেখিয়ে ওই মহিলার নানা নগ্ন ছবি তোলে ছবিল। এবং ভয় দেখিয়ে এর পরেও কয়েকবার ধর্ষণ করে। এই সময়ে ছবিল নিজ ক্ষমতার প্রতি ও এই নারীর মুখ বন্ধ করে থাকার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল যে সে জানিয়ে দেয় যে এরকম নগ্ন অ্যালবাম তার আগে ধর্ষিত নারীদেরও আছে। আস্তে আস্তে বেরোয়ে যে ছবিল স্থানীয় স্কুলের ছাত্রীদের লুকিয়ে ভিডিও তোলে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা থেকে। "সামনে ধার্মিক ও হিন্দু বীর সাজা এই রাক্ষসের স্বরুপ আমি সকলের সামনে দেখাতে চাই" - একটাই দাবী ধর্ষিতার। কিন্তু গুজরাট রাজ্য নারী কমিশনের চুপ থাকা ভালো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। তদন্তকারী কর্মী ও অফিসারদের বদলি করে দেওয়া হয়েছে ৬ মাসে দুইবার। আরটিআই কর্মী ও উকিল চমন ভালসারা এই কেস সম্বন্ধে বলেন, "ইনি যেমন প্রভাবশালী, তাতে ইনি জেল থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারবেন এবং ধর্ষিতার জীবন নিয়ে টানাটানি হতে পারে। কেসে কোন তদন্ত হচ্ছে না। ধর্ষিতাকে যেন তার সাহসিকতার দাম না চোকাতে হয়"।              

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad