লকেট চট্টোপাধ্যায়ের খোলামেলা ছবি, চুপ কৈলাস বিজয়বর্গী। নেপথ্যে কি অন্য কাহিনী? - Banglar Chokh | True News for All

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Friday, November 30, 2018

লকেট চট্টোপাধ্যায়ের খোলামেলা ছবি, চুপ কৈলাস বিজয়বর্গী। নেপথ্যে কি অন্য কাহিনী?

কৈলাস বিজয়বর্গী মধ্যপ্রদেশ বিজেপির নেতা, যাকে দিল্লী থেকে কলকাতায় পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। বিজেপির অন্দরমহলে ঠিক এই সময়ে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বিজেপি সংগঠনে অতি দ্রুত উত্থানে ক্ষুব্ধ হন তপন শিকদারের সময় থেকে বিজেপি করা অনেক সংস্কৃতিবান মানুষ।












এই নিয়ে ক্ষোভ মোটেই চাপা নয়। বিশেষত হঠাৎ করে লকেটের বিজেপি মহিলা সংগঠনের শীর্ষে পৌঁছে যাওয়া নিয়ে সংগঠনের অনেক ত্যাগী নেত্রীর ক্ষোভ ছিল তুঙ্গে। এই নিয়ে একাধিক বার অপ্রীতিকর ভাবে এই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে। বার বার ফিরে ফিরে আসে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের অতীতের সিনেমা ও আজ তিনি যে হিন্দু নারীর সংস্কৃতির কথা বলেন, তার মধ্যে বিস্তর ফারাকের কথা।

কৈলাস বিজয়বর্গীর বাংলায় পর্যবেক্ষণ কালে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বার বার প্লেনে করে কলকাতা ছেড়ে এখানে সেখানে যাওয়া এবং একই সাথে রাজ্য বিজেপি সংগঠনে কৈলাস বিজয়বর্গীর হস্তক্ষেপে তার অতি দ্রুত উত্থান দলের পুরনো অনেক কর্মী, বিশেষত নারী কর্মীরা মেনে নিতে পারেনি।




















কৈলাস বিজয়বর্গীর নিজের ইমেজে যথেষ্ট দাগ পড়ে, বিশেষত তার নিজের শহর ইন্দোরে যখন এটা জানাজানি হয়ে যায়।














এ কারণে মধ্যপ্রদেশে সামনের নির্বাচনে ৬ বার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া কৈলাস বিজয়বর্গীকে এবার টিকিট দেওয়া হয়নি। নারী সংগঠনে বেশি সদস্য না বাড়ায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের কাছে প্রকাশ্যে ধমক শুনতে হয় রাজ্য নেতৃত্বকে। কৈলাস বিজয়বর্গীও নিজের ইমেজ বাঁচাতে নারীদের ওড়না নিয়ে শরীর কেমন করে ঢাকা উচিত এবং সীমা লঙ্ঘনকারী নারীদের সাথে কি রকম ব্যবহার করা উচিত, তা নিয়ে একাধিক বক্তব্য রেখেছেন।  এড়িয়ে গেছেন লকেট চট্টোপাধ্যায় নিয়ে যে কোন বক্তব্য।













আজকে কৈলাস বিজয়বর্গী যে আব্রুযুক্ত হিন্দু নারীর ছবি আঁকছেন, সেটা লকেট চট্টোপাধ্যায়কে সংগঠনে উপরে তোলার সময় তার কি মনে ছিল না - এটাই প্রশ্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের। তার নিজের একটি ছেলে আছে, বাড়িতে বৌ আছে। তিনি এ নিয়েই সুখে থাকতে চান বলে জানিয়েছেন। বাড়িতে অশান্তি এড়াতে পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক পদও তিনি ছেড়ে দেন। কিন্তু তবুও তিনি ২০১৮ মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। উনি জানিয়েছেন যে ওনার মন সাধুর মত এবং ওনার লুকোনোর কিছু নেই। ওনার স্ত্রী ও দুই পুত্রই ওনার সবকিছু। এবার উনি পুত্রের আকাশের রাজনৈতিক কেরিয়ার বানাতে উদ্যোগী হয়েছেন। সে যাতে মনোনয়ন পায়, তার জন্য উনি বিতর্কিত এই সব ইস্যুতে কুলুপ এঁটেছেন। পুত্র আকাশ বিজয়বর্গী বলেছেন যে আমার পিতা কৈলাস বিজয়বর্গী কিন্তু আমার নাম আকাশ বিজয়বর্গী। টিকিট চাইছে আকাশ বিজয়বর্গী, কৈলাস বিজয়বর্গী না। বাবা কলকাতা থেকে ইন্দোরে চোখ ফেরাতে আকাশেরই সুবিধে বলে মনে করছে মধ্যপ্রদেশের প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক অবনী কুমার।   

বিজেপিতে কৈলাসের এই অবস্থা হবার পরে লকেট চট্টোপাধ্যায় কি ধরে রাখতে পারবেন তার পজিশন? তৃণমূল নেতৃত্বের সাথে তার এককালের ঘনিষ্ঠতার কথা তাই এখন ফিরছে অনেক আগে থেকে দল করা বিজেপি মহিলা সংগঠনের বিক্ষুব্ধ সদস্যাদের মুখে মুখে। তারা প্রশ্ন করছেন, দক্ষিণেশ্বরের ফ্ল্যাটটি  তৃণমূলের কোন নেতার দেওয়া?

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad